1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
পাহাড়ি-বাঙালির ঐক্যে শান্তি ও উন্নয়নের আহ্বান এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার - আলোকিত খাগড়াছড়ি

পাহাড়ি-বাঙালির ঐক্যে শান্তি ও উন্নয়নের আহ্বান এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে
মো. আবদুর রউফ:
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য বজায় রেখে জেলার সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকলের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “পাহাড়ে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা আরও জোরদার করতে হবে। বিভাজন নয়, ঐক্যই পারে এই অঞ্চলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে।” তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িকে একটি শান্তিপূর্ণ, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক জেলায় পরিণত করতে হলে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
তিনি উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট লেখক মংপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা এবং সহ-সভাপতি হাফেজ উদ্দিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জেলার উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মন্দির, মসজিদ ও বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।
এছাড়াও বক্তারা পাহাড়ি অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর খাগড়াছড়ি পর্যটনের জন্য একটি সম্ভাবনাময় জেলা, যা সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সভায় উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাগড়াছড়ি একদিন একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও উন্নয়নের রোল মডেল জেলায় পরিণত হবে। তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ